আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার (১২ অক্টোবর) রাতের এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষে অন্তত আড়াইশ সেনা ও অস্ত্রধারী নিহত হয়েছেন।

আফগানিস্তান দাবি করেছে, তাদের হামলায় পাকিস্তানের ৫৮ সেনা নিহত হয়েছে। তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দাবি, তাদের ২৩ সেনা নিহত হলেও আফগান তালেবান ও অন্যান্য অস্ত্রধারীসহ প্রায় ২০০ জন নিহত হয়েছে। তীব্র লড়াইয়ের পর গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

আলজাজিরা জানায়, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের আঙ্গুর আড্ডা, বাজাউর, কুরম, দির, চিত্রাল ও বেলুচিস্তানের বাহরাম চাহ এলাকায় সংঘর্ষ হয়। উভয় পক্ষ সীমান্ত চেকপোস্ট দখল ও ধ্বংসের দাবি করেছে। এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম ভয়াবহ সীমান্ত সংঘর্ষ বলে মনে করা হচ্ছে।

তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, কাবুল ও পাকতিকা প্রদেশে বিস্ফোরণের পর সংঘাত শুরু হয়। আফগান বাহিনীর হামলায় পাকিস্তানের ২৫টি সেনা পোস্ট দখল করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। অপরদিকে পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা আফগানিস্তানের ২১টি শত্রুতাপূর্ণ অবস্থান অল্প সময়ের জন্য দখল করেছে।

কাবুল বিস্ফোরণের জন্য পাকিস্তানকে দোষারোপ করেছে আফগানিস্তান। তবে ইসলামাবাদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তালেবান প্রশাসন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। পাকিস্তানের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, কাবুলে বিমান হামলায় টিটিপি প্রধান নূর ওয়ালি মেহসুদকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, সৌদি আরব ও কাতার উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শন ও সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শহবাজ শরিফ আফগান হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, সেনাবাহিনী আফগান বাহিনীর কয়েকটি পোস্ট ধ্বংস করেছে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সংঘাত

কাবুল ও পাকতিকা প্রদেশে পরপর বিস্ফোরণের পর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। তালেবান পাকিস্তানকে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ করে, আর পাকিস্তান টিটিপির হামলার দায় চাপায় তালেবানের ওপর।

ইসলামাবাদভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ জানায়, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই সীমান্ত সংঘাতে দুই হাজার ৪১৪ জন নিহত হয়েছেন। গত বছর নিহতের সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৫৪৬। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ক্ষমতাচ্যুতি ও আফগান শরণার্থী বিতাড়নের পর থেকে সংঘাত আরও বেড়েছে।

বর্তমানে পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছেন অন্তত ৩০ লাখ আফগান শরণার্থী।

Share.