আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসের কাছে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে লক্ষ্য করে চালানো অতর্কিত গুলিতে এক সদস্য নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় আরো একজন গুরুতর আহত রয়েছেন। মার্কিন প্রশাসন এটিকে ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গুলি চালানোর সন্দেহভাজন ব্যক্তি একজন আফগান নাগরিক, যিনি অতীতে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলো বুধবার তার পরিচয় নিশ্চিত করে।

নিহত ও আহত

  • নিহত: সারাহ বেকস্ট্রম (২০)
  • গুরুতর আহত: অ্যান্ড্রু ওলফ (২৪)

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনাকে “বাইডেন আমলের অভিবাসন যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়ার ব্যর্থতা” বলে মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি তিনি আফগান আশ্রয়প্রার্থীদের সব মামলার ব্যাপক পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।

তদন্তে এফবিআই

এফবিআই জানিয়েছে, ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত চলছে। এর অংশ হিসেবে একাধিক স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে, যার মধ্যে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের একটি বাড়িও রয়েছে। বাড়িটি হামলার সন্দেহভাজন ২৯ বছর বয়সী রহিমুল্লাহ লাকানওয়াল–এর সঙ্গে যুক্ত বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী—

  • লাকানওয়াল ২০২১ সালে পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন
  • যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগে তিনি সিআইএ-সমর্থিত আফগান ইউনিটের সদস্য ছিলেন
  • তার বাসা থেকে ফোন, ল্যাপটপ, আইপ্যাডসহ বেশ কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে

ওয়াশিংটন ডিসির মার্কিন অ্যাটর্নি জেনিন পিরো জানান, লাকানওয়াল দেশজুড়ে গাড়ি চালিয়ে এসে বুধবার বিকেলে হোয়াইট হাউসের কাছে টহলরত ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের ওপর আকস্মিক হামলা চালান।

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

থ্যাঙ্কসগিভিং উপলক্ষে সামরিক সদস্যদের সঙ্গে আলাপচারিতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন,
“আমাদের জাতির রাজধানীতে যে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, যেখানে এক নৃশংস দানব ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে গুলি করেছে— সেই ঘটনায় পুরো জাতির যন্ত্রণা আমি প্রকাশ করতে চাই।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে ২০২১ সালে যথাযথ যাচাই ছাড়া দেশে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের মধ্যেই এই হামলাকারী ছিলেন। তবে তিনি এ দাবি সমর্থনে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

ট্রাম্প বলেন,
“সন্দেহভাজনের এই নৃশংসতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়— দেশে যারা প্রবেশ করে তাদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার চেয়ে বড় কোনো জাতীয় নিরাপত্তা অগ্রাধিকার নেই।”

সূত্র: রয়টার্স

Share.