গত সোমবার (১০ নভেম্বর) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার মধ্যে ঘটে এক নজিরবিহীন ঘটনা। ট্রাম্প বৈঠকের সময় নিজের ব্র্যান্ডের পারফিউম আল-শারাকে উপহার দেন এবং তা সরাসরি আল-শারার গায়ে স্প্রে করেন। এই মুহূর্তে তিনি হালকা রসিকতায় বলেন, “এটাই সেরা ঘ্রান। আরেকটা তোমার স্ত্রীর জন্য।” এরপর হঠাৎ হাসি মুখে জিজ্ঞেস করেন, “কয়জন স্ত্রী তোমার?” আল-শারা সংযতভাবে জবাব দেন, “অবশ্যই একজনই।” ট্রাম্প তখন ঠাট্টা করে বলেন, “তুমি জানো না, ভবিষ্যতে কী হবে!”। উপস্থিত সবাই হাসতে থাকে এবং ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে যায়।
এই সময় বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল আসাদ পরবর্তী সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং আইএসবিরোধী কার্যক্রম, তবে ট্রাম্পের পারফিউম ঘটনাটি তা ছাপিয়ে যায়। ভিডিওটি X (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে প্রকাশিত হওয়ার মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই লাখ লাখ ভিউ অর্জন করেছে, এবং অসংখ্য মিম, সাংস্কৃতিক মন্তব্য ও কূটনৈতিক আচরণ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
আহমেদ আল-শারা, যিনি পূর্বে হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)-এর নেতা ছিলেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ তালিকায় ছিলেন, বর্তমানে সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি অতীতের জিহাদি পরিচয় থেকে দূরে সরে আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করছেন। তাঁর এই সফর ছিল সিরিয়ার নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ, যেখানে পুনর্গঠন সহায়তা, শরণার্থী প্রত্যাবর্তন এবং পূর্ব সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা হয়।
ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, পারফিউম স্প্রে করার মুহূর্তে আল-শারা সামান্য গলা কাত করেন, যা তাঁর অস্বস্তি নির্দেশ করে, যদিও তিনি সংযত আচরণ বজায় রাখেন। তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত ও সংযত জবাব—‘ওয়ান’—সম্ভাব্য অস্বস্তি দূর করে এবং বৈঠকের বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠরা এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ‘স্বভাবসুলভ আকর্ষণ কৌশল’ হিসেবে, যেখানে তিনি ব্যবসায়িক ধাঁচে ব্যক্তিগত মন্তব্য ও উপহার বিনিময় করে আলোচনার আভিজাত্য সৃষ্টি করেন।
ট্রাম্পের এই রসিকতা আরব ও মুসলিম সমাজের বহুবিবাহের প্রচলিত ধারণাকে আঙুলে চেপে দেখিয়েছে। আল-শারা প্রকাশ্যে একজন স্ত্রীর কথা উল্লেখ করেছেন এবং নিজেকে পারিবারিক মূল্যবোধসম্পন্ন নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতে চান। ঘটনাটি বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের নজর কাড়েছে, কেউ এটিকে ‘বেদনামিশ্রিত কৌতুক’, আবার কেউ ‘অস্বস্তিকর কিন্তু মজাদার’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
এতদিনের অভিজ্ঞতায় ট্রাম্পের অপ্রচলিত কূটনৈতিক ধরণ এবং আল-শারার সংযত প্রতিক্রিয়া কৌশল একটি ব্যতিক্রমী কূটনৈতিক ঘটনা হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেয়েছে। হোয়াইট হাউস সফর শেষে আল-শারা দামেস্কে ফিরে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, যদিও পারফিউম ঘটনার উল্লেখ করেননি। তবে এই সফর সিরিয়ার প্রেসিডেন্টদের প্রথম হোয়াইট হাউস সফর হিসেবে ইতিহাসে যুক্ত হয়েছে।
