আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৮ নভেম্বর ২০২৫
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রায় এক মাস পার হলেও গাজায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ এখনো চলছে, প্রতিদিনই হতাহতের খবর আসছে নতুন করে।
শনিবার (৮ নভেম্বর) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৬৯ জনে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, শুধু গত মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইলি হামলায় ২৪০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, শনিবারের হামলায় আরও দুই ফিলিস্তিনির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইসরাইলি সেনারা নানা অজুহাতে গাজার উত্তর সীমান্তে ‘ইয়েলো লাইন’ অতিক্রমের অভিযোগ তুলে নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে। এই ‘ইয়েলো লাইন’ কোথায় আছে তা কেউই সঠিকভাবে জানে না, ফলে প্রতিদিনই সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।
ইসরাইলের আগের হামলায় গাজায় প্রায় দুই লাখ টন বোমা ফেলা হয়েছে, যার মধ্যে ৭০ হাজার টন এখনো নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
এদিকে গাজার শেখ রাদওয়ান এলাকায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ দূষিত পানির সংকট। ধ্বংস হয়ে গেছে পাম্প স্টেশন ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা। বৃষ্টির পানি ধরে রাখার পুকুরগুলোতে জমেছে ময়লা-আবর্জনা, যা ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের বসতি ও আশ্রয়শিবিরে।
স্থানীয় প্রশাসনের হিসেবে, পানির স্তর বেড়ে ৬ মিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে, এতে দুর্গন্ধ, মশা ও সংক্রমণের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার ভূগর্ভস্থ পানির বড় অংশ এখন মারাত্মকভাবে দূষিত।
এদিকে পশ্চিম তীরেও বাড়ছে সহিংসতা। জেনিনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাবা গ্রামে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা সেনাদের সহায়তায় ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, শুধু সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ৭০টি গ্রামে ১২৬টি সহিংস হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং চার হাজারেরও বেশি জলপাই গাছ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলেও ইসরাইলি হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় পরও দেশটিতে নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল।
এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
