নিউইয়র্ক সিটির ১১১তম মেয়র নির্বাচনে অনানুষ্ঠানিকভাবে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোহরান মামদানি। এর মধ্য দিয়ে শহরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম এবং সবচেয়ে কমবয়সী মেয়র হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে মামদানি ছিলেন সবচেয়ে আলোচিত ও অপ্রতিরোধ্য প্রার্থী। তিনি আগামী ৩১ ডিসেম্বর বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামসের মেয়াদ শেষ হলে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এই নির্বাচনে প্রধান তিন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ডেমোক্র্যাট জোহরান মামদানি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নিউইয়র্ক স্টেটের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুমো এবং রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী কার্টিস স্নিওয়া। বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস প্রাথমিকভাবে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন। তবে আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে ক্যুমোকে সমর্থন জানান।

এ তিনজন ছাড়াও আরও নয়জন ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তবে ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্র্যাট ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্কে শুরু থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল, মামদানিই পরবর্তী মেয়র হতে যাচ্ছেন।

নির্বাচনের আগেই একাধিক জরিপে এগিয়ে ছিলেন মামদানি। সাফোক ইউনিভার্সিটির ২৭ অক্টোবরের জরিপ অনুযায়ী, তিনি ক্যুমোর চেয়ে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। জরিপে মামদানির পক্ষে ছিলেন ৪৩ শতাংশ ভোটার, ক্যুমোর পক্ষে ৩৪ শতাংশ এবং রিপাবলিকান প্রার্থী স্নিওয়ার পক্ষে ১১ শতাংশ ভোটার।

ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে মামদানির উত্থান ছিল একেবারে জাদুকরের মতো। দলের প্রাইমারিতেই তিনি হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক গভর্নর ক্যুমোকে পরাজিত করে রাজনৈতিক শক্তিমত্তার প্রমাণ দেন। সেই প্রাইমারি বিজয়ই মূলত নির্ধারণ করে দেয় নিউইয়র্কের পরবর্তী মেয়র কে হতে যাচ্ছেন।

তার বিরুদ্ধে নানা চক্রান্ত, অপপ্রচার, এমনকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কটূ মন্তব্যও তাকে টলাতে পারেনি। ইসলামবিরোধী ও ইসরাইলপন্থী ইহুদি লবির বিরুদ্ধাচরণ, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আহ্বান এবং ফেডারেল সহায়তা বন্ধের হুমকি—সবকিছু উপেক্ষা করেই তিনি জয়ের পথে এগিয়ে গেছেন।

নিউইয়র্ক সিটির তরুণ প্রজন্ম, প্রগতিশীল ভোটার এবং শ্রমজীবী শ্রেণির বিপুল সমর্থন পেয়েছেন মামদানি। তার পক্ষে প্রায় এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক সার্বক্ষণিকভাবে প্রচারণায় কাজ করেছেন—যা নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে নজিরবিহীন।

সবশেষে, জোহরান মামদানি শুধু এক নতুন মেয়র নন—তিনি এখন নিউইয়র্ক সিটির অন্তর্ভুক্তি, বৈচিত্র্য ও প্রগতির নতুন প্রতীক।

Share.