দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ স্টেশন অতিক্রমের পর আন্তঃনগর একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে পপকর্ন ও নারিকেল বিক্রেতাদের ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে আল আমিন (২৫) নামে এক পপকর্ন বিক্রেতাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাতে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মিলন নামে আরও এক হকার আহত হয়েছেন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে ট্রেনটি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ রেল স্টেশনে পৌঁছালে যাত্রীরা রক্তাক্ত অবস্থায় আল আমিন ও মিলনকে নামিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। চিকিৎসক আল আমিনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মিলন হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন আছেন। নিহত আল আমিন ও আহত মিলন দুজনই কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার চড়বথুয়াতুলি গ্রামের বাসিন্দা।

নিহতের চাচাতো ভাই মাহবুবুর রহমান জানান, ট্রেনে নারিকেল ও পপকর্ন বিক্রি নিয়ে আকাশ-সুজন ও কুদরত নামে কয়েকজন বিক্রেতার সঙ্গে আল আমিনের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে সেতাবগঞ্জ থেকে পীরগঞ্জের পথে চলন্ত ট্রেনেই প্রতিপক্ষরা ছুরি দিয়ে আল আমিনের গলা কেটে হত্যা করে। এ সময় মিলনও আহত হন।

ঘটনার পর যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ট্রেনে নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এমন সহিংসতা বেড়েই চলেছে। যাত্রী রাফিয়া বলেন, “ট্রেনের ভেতর খুনোখুনি হবে—এটা কল্পনাও করিনি। বগিতে হকারদের দৌরাত্ম্য, মারামারি, চাঁদাবাজি সবই চলে। কেউ নজরদারি করে না।”

আরেক যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন ট্রেনে উঠে ভয় লাগে। নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই। চলন্ত ট্রেনে গলা কেটে মানুষ হত্যা—এটা রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক।”

পীরগঞ্জ স্টেশনের সহকারী মাস্টার আব্দুল আজিজ জানান, স্টেশনে পৌঁছানোর পর লোকজন দুই হকারকে নামিয়ে হাসপাতালে নেয়। তিনি বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশকে জানিয়েছেন।

পীরগঞ্জ থানার ওসি তাজুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা যায়নি। রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

Share.