দক্ষিণ থাইল্যান্ডে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। শনিবার দেশটির সরকারের মুখপাত্র সিরিপং আঙ্কাসাকুলকিয়াত জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত বন্যায় ১৬২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। আগের দিন আট প্রদেশে ১৪৫ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হলেও সর্বশেষ হিসাব আরও ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে—বন্যাকবলিত মানুষের সংখ্যা ৩৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, থাইল্যান্ডে প্রাণহানি বাড়ায় দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার তিন দেশ—থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া—মিলে মোট মৃতের সংখ্যা সাড়ে তিনশর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। আগের দিনই তিন দেশে মোট ৩২১ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় সর্বশেষ পরিস্থিতি এখনও স্পষ্ট নয়।

দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার চলমান বন্যায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত তিন প্রদেশে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৪। সুমাত্রার পদাং পারিয়ামান এলাকায় ২২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অনেক জায়গায় পানির উচ্চতা এক মিটার পর্যন্ত হওয়ায় উদ্ধারকর্মীরা এখনও প্রবেশ করতে পারেননি।

জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র আবদুল মুহারি জানান, সুমাত্রার বহু অঞ্চল এখনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা এবং ভূমিধসে বন্ধ থাকা রাস্তা পরিষ্কারে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিমানযোগে ত্রাণ ও উদ্ধারকর্মী পাঠানো হচ্ছে।

থাইল্যান্ডের হাত ইয়াই শহরে শুক্রবার বৃষ্টি না হলেও গোড়ালি–সমান পানি এখনও নামেনি। অনেক বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও পুনর্গঠনের কাজ চলছে। স্থানীয়দের ভাষ্য—“সবকিছু হারিয়ে গেছে।”

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, থাইল্যান্ডের বন্যাকবলিত ২৫টিরও বেশি হোটেলে আটকে পড়া ১,৪৫৯ মালয়েশিয়ান নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও প্রায় ৩০০ জন বিভিন্ন এলাকায় আটকা রয়েছেন—তাদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।

দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার তিন দেশে বন্যাকবলিত এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করলেও উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন—সব ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি এখনও সংকটাপন্ন।

Share.