ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী বলেছেন, ধর্মভিত্তিক একটি রাজনৈতিক দল খুব সূক্ষ্ম কৌশলে নারীর অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে চায়। তারা নারীদের হাতে-পায়ে শিকল দিতে চায় এবং ঘরে বন্দি করার চেষ্টা করছে।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেলে শেরপুর পৌর শহরের ডিজে হাইস্কুল খেলার মাঠে নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের উদ্যোগে বগুড়া-৫ (শেরপুর–ধুনট) আসনের বিএনপি প্রার্থী গোলাম মো. সিরাজের পক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

নিপুন রায় বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান যদি নারীর পাঁচ ঘণ্টার কাজের জন্য আট ঘণ্টার বেতন দিতে বাধ্য হয়, তবে তারা নারীদের চাকরি দেবে না—এমন ভুল ধারণা তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি বাইরে থাকব নাকি ঘরে থাকব—এটা নির্ধারণ করবে নারীরাই, অন্য কেউ নয়।”

নির্বাচনী প্রচারণায় ‘জান্নাতের টিকিট’ প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন করেন, “জান্নাতের টিকিট কেউ দিতে পারে? জান্নাতে বা বেহেশতে পাঠানোর মালিক শুধু আল্লাহ, ঈশ্বর বা ভগবান। কেউ যদি বলে অমুক মার্কায় ভোট দিলে জান্নাতে যাবেন—তাহলে অন্য ধর্মাবলম্বীরা কোথায় যাবে?” তিনি আরও যোগ করেন, ধর্মকে ব্যবহার করে যারা অপপ্রচার ও অপরাজনীতি করে, তারা কখনো দেশের কল্যাণ করতে পারে না।

তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি পরিবারে নারী প্রধানের নামে একটি করে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা সহায়তা পাওয়া যাবে, যা দিয়ে পরিবারে আর্থিক স্বনির্ভরতা বাড়বে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে নিপুন রায় বলেন, “নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না। আপনারা বাংলাদেশি—এটাই বড় পরিচয়।” তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার হিন্দুদের বাড়িঘর দখল করেছে এবং সেসব ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয়নি।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, খালেদা জিয়ার শাসনামলে উপবৃত্তি, শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্যসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মেয়েদের শিক্ষার পথ সুগম হয়েছিল। তিনি উপস্থিত নারীদের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে গোলাম মো. সিরাজকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, শেরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবলু, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা শফিকুল আলম তোতা, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিন্টু, নেতা আসিফ সিরাজ রব্বানি, সহ-সভাপতি পিয়ার হোসেন পিয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মোমিন, যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুজ্জামান পলাশ, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রসিদ আপেল, যুবদলের আহ্বায়ক আশরাফুদৌলা মামুন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কাউসার কলিন্সসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Share.