রাজধানীর পুরান ঢাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দুই ভাড়াটে শুটারকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) লালবাগ বিভাগ। গ্রেপ্তাররা হলেন রুবেল ও ইব্রাহিম—দুজনই পেশাদার ভাড়াটে খুনি হিসেবে কাজ করতেন।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, মামুন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। “এদের মধ্যে দুইজন সরাসরি শুটার এবং একজন তাদের ব্যাকআপ টিমের সদস্য,” বলেন তিনি। ডিবির টিম এখনো মাঠে অভিযানে থাকায় বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে সোমবার (১০ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে আদালত থেকে ফেরার পথে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় তারিক সাইফ মামুনকে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে মামুন দ্রুত হাসপাতালের ফটকের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন, তখন পেছন থেকে দুইজন অস্ত্রধারী তার দিকে গুলি ছুড়তে থাকে। মুহূর্তের মধ্যেই তারা কাছ থেকে একযোগে একাধিক গুলি চালায়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তারা হত্যামিশন সম্পন্ন করে অস্ত্র কোমরে গুঁজে দ্রুত গেটের বাঁ দিকে পালিয়ে যায়।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মামুনকে প্রথমে ন্যাশনাল মেডিক্যালে নেওয়া হয়, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামুনের শরীরে সাতটি গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়—মাথার নিচে, বুক, পিঠ ও দুই হাতে গুলি লেগেছিল।

পুলিশ জানায়, নিহত তারিক সাইফ মামুন রাজধানীর তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একজন এবং ‘ইমন-মামুন গ্রুপ’-এর প্রধান নেতা ছিলেন। একসময় তিনি কুখ্যাত সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের সহযোগী ছিলেন। অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইমন ও মামুনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তদন্তে উঠে এসেছে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফের নামও। ১৯৯৭ সালে জোসেফের ভাই টিপু হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি ছিলেন মামুন। পুলিশ ধারণা করছে, সেই পুরোনো শত্রুতার জেরেই জোসেফ গ্রুপের সদস্যরা মামুনকে টার্গেট কিলিংয়ের মাধ্যমে হত্যা করে থাকতে পারে।

Share.