সবজির দাম কমে বাজারে যখন খানিকটা স্বস্তি ফিরছিল, তখনই হঠাৎ চড়ে বসেছে পেঁয়াজের দাম। মাত্র এক সপ্তাহে পণ্যটির দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। এতে সবজির বাজারে পাওয়া স্বস্তিটুকুও ম্লান হয়ে গেছে।

রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, মহাখালী ও জোয়ারসাহারাসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় বেগুন, শিম, করলা, ঢেঁড়স, পটোল, লাউ, বরবটি, কাঁচা মরিচসহ বেশির ভাগ সবজির দাম ৭ থেকে ২৩৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ডিম ও মুরগির দামও কমার প্রবণতা দেখা গেছে।

তবে পেঁয়াজের দাম বেড়ে সেই স্বস্তিতে ‘বাগড়া’ দিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের দাবি, সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও একাধিক সিন্ডিকেট ইচ্ছাকৃতভাবে সংকট দেখিয়ে দাম বাড়িয়ে মুনাফা লুটছে। তারা সরকারের প্রতি দ্রুত বাজার তদারকির আহ্বান জানিয়েছেন।

ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট সংস্থা ভলান্টারি কনজ্যুমারস ট্রেনিং অ্যান্ড অ্যাওয়্যারনেস সোসাইটি (ভোক্তা)-এর নির্বাহী পরিচালক মো. খলিলুর রহমান সজল বলেন, “এক সপ্তাহে কেজিতে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়া অস্বাভাবিক। সিন্ডিকেটের কারসাজিতেই এই পরিস্থিতি। সরকারকে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”

অন্যদিকে, কারওয়ান বাজারের আড়তদার মো. জালাল উদ্দিন জানান, আড়তে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৩৫–৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আর শ্যামবাজার পেঁয়াজ আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদের দাবি, “কৃষকের হাতে এখন পেঁয়াজ নেই, তাই দাম বাড়ছে। ভারতীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম মাত্র ১৫ টাকা কেজি—আমদানি শুরু হলে স্থানীয় বাজারও স্থিতিশীল হবে।”

পাবনা ও রাজবাড়ীসহ উৎপাদন এলাকাগুলোতেও পেঁয়াজের দাম চড়া। পাবনায় প্রতি কেজি এখন ১০৫ থেকে ১১০ টাকা, রাজবাড়ীতে পাইকারিতে প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৩,৭০০ থেকে ৪,১০০ টাকায়।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, “বাজারে প্রকৃত সংকট নেই, বরং পুরনো সিন্ডিকেট আবার সক্রিয় হয়ে দাম বাড়াচ্ছে।”

সবজির বাজারে যখন সাধারণ ক্রেতা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিল, তখন পেঁয়াজের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি আবারও সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে আগুন জ্বালাচ্ছে।

Share.