হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর অক্ষত থাকা স্ট্রংরুমের ভল্ট থেকে অন্তত সাতটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার (২ নভেম্বর) দুপুরে নিয়মিত পরিদর্শনের সময় ভল্ট থেকে অস্ত্রগুলো খোয়া যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।
চুরি হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এম-৪ কারবাইন রাইফেল ও ব্রাজিলের তৈরি টরাস সেমি-অটোমেটিক পিস্তল। তবে ঠিক কতগুলো অস্ত্র চুরি হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভল্ট ভেঙে অস্ত্র চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে বিমানবন্দরে। এ নিয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তরকেও জানানো হয়েছে।
ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মহিদুল ইসলাম বলেন, “ভল্ট ভাঙা নিয়ে একটি জিডি হয়েছে। সেখানে কয়টি অস্ত্রের কথা উল্লেখ আছে, তা এখনো নিশ্চিত নই।”
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, গত ১৮ অক্টোবর কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বিপুল পরিমাণ আমদানি পণ্য পুড়ে যায়। তবে স্ট্রংরুমের ভল্ট প্রায় অক্ষত ছিল। আগুন নেভানোর পর সেটি বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে সিলগালা করা হয়।
২৪ অক্টোবর প্রথম দফায় পরিদর্শনে গেলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ভল্টের লক খোলা ও ট্রাংক ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। তখন সেখানে ২১টি আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়। পরে ভল্ট মেরামত করে পুনরায় সিলগালা করা হয়।
তবে রবিবার দ্বিতীয় দফা পরিদর্শনে দেখা যায়, ভল্টের তালা আবার ভাঙা এবং ট্রাংক খোলা। মিলিয়ে দেখা যায়, ২১টি অস্ত্রের মধ্যে ৭টি নেই। পরে অবশিষ্ট ১৪টি অস্ত্র থানায় স্থানান্তর করা হয়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সহকারী ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) মো. জামাল হোসেন ২৮ অক্টোবর বিমানবন্দর থানায় জিডি করেন। ইতিমধ্যে পুলিশের সিআইডির ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে তালা কাটার সরঞ্জামসহ আলামত সংগ্রহ করেছে।
বিমানবন্দর নিরাপত্তা বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ওই ভল্টে মূলত পুলিশ এবং বৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের আমদানি করা অস্ত্র রাখা ছিল। আগুনে কিছু নথি পুড়ে যাওয়ায় অস্ত্রের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া কঠিন।
বিমানবন্দর থানার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মাইনুল ইসলাম জানান, “ঘটনার তদন্ত চলছে। অগ্নিকাণ্ডে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরা পুড়ে যাওয়ায় কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।”
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর পরিবর্তে নতুন ক্যামেরা স্থাপন করা হয়নি, ফলে চোর শনাক্তে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
