সিঙ্গাপুরে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানাতে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সামনে পদযাত্রা আয়োজনের অভিযোগে মামলার মুখোমুখি হওয়া তিন নারীকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।
অবৈধ সমাবেশ আয়োজনের অভিযোগে মোসাম্মদ সাবিকুন নাহার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সিতি আমিরাহ মোহাম্মদ আসরোরি এবং কোকিলা আন্নামালাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে আদালত রায়ে বলেন, তাদের কার্যক্রম অভিযোগের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
বিচারক জানান, অভিযুক্তরা জানতেন না যে প্রেসিডেন্ট ভবনের আশপাশের এলাকা সংরক্ষিত। তারা সাধারণ ফুটপাত ব্যবহার করেছিলেন, যেখানে কোনো নিষেধাজ্ঞার সাইন ছিল না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তিন নারীই আইন ভাঙা থেকে বিরত থাকার জন্য সচেষ্ট ছিলেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ওই পদযাত্রায় প্রায় ৭০ জন অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা ফিলিস্তিনি প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে তরমুজের রঙে রঙিন ছাতা বহন করেন। আদালতে শুনানির সময় তিন নারী ফিলিস্তিনি পতাকার রঙে পোশাক পরিধান করেন এবং কেফিয়াহ স্কার্ফ পরে হাজির হন— যা অনলাইনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিল।
খালাস পাওয়ার পর এক নারী বিবিসিকে বলেন, “এই রায় সিঙ্গাপুরের অধিকারকর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করবে।”
দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের প্রত্যেককে সর্বোচ্চ ১০ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার জরিমানা বা ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারত।
সিঙ্গাপুরে জনসমাবেশ অত্যন্ত বিরল। দেশটিতে কঠোর আইন অনুযায়ী যে কোনো বিক্ষোভ বা পদযাত্রার আগে পুলিশের অনুমতি নিতে হয়। ইসরাইল-গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সমাবেশও কর্তৃপক্ষ নিষিদ্ধ করেছে, কারণ সরকার মনে করে এ ধরনের আয়োজন সমাজে বিভাজন বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।
তবে সমালোচকরা বলছেন, এই কঠোর নিয়মাবলি সিঙ্গাপুরে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক সক্রিয়তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রসিকিউটরিয়াল অফিস জানিয়েছে, তারা আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। পাশাপাশি, পুলিশ ইসরাইল-গাজা যুদ্ধ-সম্পর্কিত অন্যান্য অনলাইন ও অফলাইন কার্যক্রম নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে।
